
সেই সক্কালে মা, জোরজবরদস্তি করে, দুমুঠো ভাত মুখে ঠেলে দিয়েই ইস্কুলে পাঠাতেন—
ইস্কুলে যাবার নাম শুনলেই কি জানি, বিরক্তি বিরক্তি ভাব চোখেমুখে ফুটে উঠতো;
ঘন-কুয়াশায় পাঠশালায় যাবার পথে দেখা হতো আশ-পাশের আরো কত্তো বন্ধুর সাথে। কেউ এ বাড়ি, কেউ ও-বাড়ি থেকে বের হয়েই আসছে। সেই সক্কালে মজার মজার গল্প করতে করতে ভুলেই যেতাম এই সক্কালে মায়ের সাথে ইস্কুলে আসা নিয়ে কী যে পিড়াপীড়ি হয়েছিলো।
ইস্কুলে যেতেই, পড়া পারি বা না পারি, প্রথম সারির বেঞ্চে বসার আগ্রহ বরাবই, সেই-হেতু, প্রথম সারিতেই বসতাম। শিক্ষক আসার আগে সেখানেও গাল-গল্প কিন্তু কম হতো না। শিক্ষক আসতেই সবাই চুপচাপ,,,
তারপর দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর পাশাপাশি সেলেট পেন্সিল হাতে নিয়ে নম্র ভদ্র, এবং খুব মনোযোগী হবার অভিনয় করে যেথাম। স্যারের ঘাড় এদিকে ওদিক হতে না হতেই আবার একে অন্যের সাথে ফিসফিস তথা খোঁচাখুঁচি চলতো।
তারপর—ও,
ব্লাকবোর্ডে মনযোগী হই বা না হই, স্যারের কথা বলার ধরণ বেশ আকৃষ্ট করতো।
সেই কৈশোরেই স্যারের কথার পিঠের কথা বলার কিংবা ঐ কথার আলোকে কথা আবিস্কার তথা বৈপরীত্য আনতে, তৎক্ষনাৎ মনে মনে অনেক প্রশ্ন এসেই যেতো, এমন না হয়ে তেমন হলে কেমন হতো।
ধরে নিন অংক,
পাশাপাশি যোগফলের বদলে উপর নীচের যোগফলের আগ্রহ থাকতো, তদ্রূপ বাংলা শব্দের সাথে ঐ দাড়ি ক্ষমার পটপরিবর্তন করে ধারাবাহিক লেখনীর যৌক্তিকতা কেনো হবে না, সেই ভাবনাই আসতো।
ইংরেজিতে knowledge এবং future নিয়ে তর্কের শেষ ছিল না,
উজ্জ্ব বর্ণের কারণে তর্কে জড়িয়ে পড়ার ছিলো আরেকটি অহমিকা। যদিও পড়াশোনায় উদ্ভট আচরণ করতাম কিন্তু খেলাধুলায় ছিলো মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি—
এই নিয়ে বাবা কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠদের বেত্রাঘাত—- অ-হ-হ-হ,
সে আর নাই বা বললাম,,,,,
বেলা শেষে বাড়ির চতুর সীমানায় আসার আগেই সিদ্ধ চালের ভাতের ধোঁয়া আর কৈ মাছের ঝোলের সাথে ধনেপাতার সুগন্ধি,,,, আহাহা-
এমনি ক্ষুধার্ত হতাম যে বাকী পথটুকু হাঁটার কিংবা গোসল সারার আগেই মা মা বলে হাঁক দিয়ে বলতাম ভাত দাও,,,,
সেই সকালে জোরজবরদস্তি করে যে খাইয়ে দিয়েছিলেন, তারপর টিউবওয়েলের পানি ব্যতীত কিছুই পেটে যায়নি।
তাই,
কোনোমতে টিউবওয়েলে হাত ধুয়েই খেতে শুরু করতাম, মায়ের মমতা মাখানো বৈকালের ভোজন।