
গণতন্ত্রের বাতিঘর
স্তব্ধ আকাশ, আজ নীরব বাংলার মাটি,
বিদায়ের বেদনায় ভারী জনপদ—
আহত প্রতিটি স্মৃতির ঘাঁটি।
চলে গেলেন আপসহীন নেত্রী মোদের,
জননী তুমি অটল;
দৃঢ়তায় তোমার বারেবারে কেঁপেছে
ফ্যাসিবাদীদের ক্ষমতার মঞ্চস্থল।
তোমার চোখে ছিল আজন্ম
দেশের দীপ্ত শপথ,
আর হৃদয়ে প্রবাহিত ছিল
মুক্তির রাঙা রাজপথ।
সংগ্রাম ছিল অলংকার তোমার,
সাহস ছিল শ্বাস;
মায়ের মতোই আগলে রেখেছিলে
গণতন্ত্র ও গণমানুষের বিশ্বাস।
রাজপথের ঐ উত্তাল ঢেউ থেকে
নিঃসঙ্গ বন্দিশালা,
ন্যায়ের পতাকা হাতে থামোনি তুমি
সয়েছ যন্ত্রণার মালা।
লাঞ্ছনা, শৃঙ্খল, অন্ধকার
আর কারাগারের রাত;
ভাঙতে পারেনি দৃঢ়তা তোমার,
পারেনি নোয়াতে মাথা ও হাত।
চেয়েছিল যারা করতে বিতাড়িত,
আজ তারাই পলাতক, নির্বাসিত;
আর তুমি মাগো সগৌরবে ঘুমালে—
হয়ে এক অম্লান ইতিহাস,
সুশীতল সবুজ ছায়াতলে।
যন্ত্রণার পাহাড় বুকে নিয়েও ছিলে
অনড় ও অবিচল,
কখনো করোনি অন্যায়ের কাছে
আত্মসমর্পণ বা নত আঁখিজল।
হে মহীয়সী, ত্যাগেই তুমি
হয়ে রইলে জীবন্ত ইতিহাস;
তোমার শূন্যতায় আজ কাঁদছে
বাংলার আকাশ-বাতাস।
এ প্রজন্ম আর আগামীর জন্য—
হয়ে রইবে তোমার কাছে ঋণী,
তুমিই শিখিয়েছ মাথা উঁচু করে
কীভাবে বাঁচিতে হবে চিরদিনি।
ঘুমাও মা তুমি শান্তিতে আজ
প্রভুর রহমতের শীতল ছায়ায়,
গণতন্ত্রের বাতিঘর হয়ে রইবে
ইতিহাসের পাতায় ও মায়ায়।
যতদিন রবে এই বাংলার মাটি,
ততদিন রবে তোমার অবদান;
তোমার নামেই জ্বলবে প্রদীপ—
প্রতিবাদী মানুষের জয়গান।
বুকের ভেতর লালন করা
এক মানচিত্রের নাম,
যার বিনিময়ে সয়েছিলে তুমি
সহস্র অপমান।
তপ্ত রোদে, ঝঞ্ঝা-বায়ু
কিংবা কারার অন্ধকারে,
বিচ্যুত হওনি কভু তুমি—
বেঁধেছ দেশপ্রেমের ডোরে।
এ কোনো সাধারণ টান নয়,
এ যে প্রাণের স্পন্দন;
জনতার সাথে তোমার ছিল
এক অলিখিত চিরন্তন বন্ধন।
সুখ বিসর্জন দিয়ে তুমি
বেছে নিলে কণ্টকাকীর্ণ পথ,
গণতন্ত্রের নিশান হাতে
আজীবন অটল ছিল তোমার রথ।
মহীয়সী তুমি, প্রবল পাহাড়—
যেমন ঝরনা ধারা,
তোমার ত্যাগের মহিমায় আজ
বিস্মিত ধ্রুবতারা।
এই তো সেই প্রণয়, যা মূর্ত হয়
স্বদেশের গভীর মায়ায়;
কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা
আজও তোমারই ছায়ায়।
শৃঙ্খল ভেঙে জাগবে আবার
সেই চেনা হুংকার,
মহাপ্রণয়ের শক্তিতে ঘুচবে—
সব আঁধার ও হাহাকার।
তুমি রবে হৃদয়ে মিশে
জনতার এই রণে,
বেঁচে থাকবে চিরকাল মা হয়ে
বাঙালির মনে ও প্রাণে।