
মনটা আমার ছড়িয়ে দিলাম নীল আকাশের বুকে
শরৎও যায় হেমন্ত আসে কাটবে যে দিন সুখে।
‘অগ্র’ও’হায়ণ’ মিলে হলো মাস অগ্রহায়ণ
কৃত্তিকা ও আদ্রা তারা তোমরা কি ভাইবোন ?
তোমাদের নাম মাথায় নিয়ে কার্তিক অগ্রহায়ণ
কেউ কি জানে তোমাদের নামের মিষ্টি রসায়ন
হেমন্ত সকাল নরম ধূসর আলোর স্বর্গীয় বর্ণা
গাছের পাতায় হালকা ছায়া প্রকৃতি অনন্যা।
ঋতু বদলের সাথে বদলায় বাংলার প্রকৃতি
শিশির ভেজা সন্ধ্যায় ম্লান এই হেমন্তের রীতি।
হেমন্ত হলো ষড়ঋতুর চতুর্থ ঋতুকাল
পাখিরা করে কিচিরমিচির আসে মিষ্টি সকাল।
পাখির গান আর বনফুলে মেশা সুগন্ধি বাতাস
ফসলের মাঠ মনে হয় যেন অরণ্য আকাশ।
হেমন্ত রানী তোমার বিচিত্র শীত-গরমের খেলা
ঘরে ঘরে পিঠা পায়েস আনন্দ চলে মেলা।
খেজুর রসের মিষ্টি স্বাদে গাছি বাঁধে কলস
পাকা ধানের ম-ম গন্ধে গাঁ গেরাম হয় সরস।
হেমন্তের নেই শরতের মতো বর্নর্ণৈশ্বর্য
কেমনে ভুলি গন্ধরাজ আর চামেলীর প্রাচুর্য।
মানুষের হাতে তুলে দেয় অগাধ শস্য ভান্ডার
পাকা ফসলে ভরে তোলে মাঠ আর কান্তার।
হিমের হালকা পরশ আসে বয়ে নিয়ে সওগাত
তাল নারিকেল পেয়ারা ফল আরও মধুভাত।
শরতের পায়ে পা লাগিয়ে আসে সুখ-হেমন্ত
শীতের পদধ্বনি থেমে গেলে আসে বসন্ত।
জুঁই শেফালি অশোক ছাতিম কাশের বাংলায়
হেমন্ত আসে হেমন্ত গায় পাখিদেরপাঠশালায়।