
(১)
যদি আমাকে পুনরায় জন্ম নেবার সুযোগ দেওয়া হয়,
তবুই আমি গৌরবের সাথে
একজন পুরুষ হয়েই জন্ম নিতে চাই।
(২)
কারণ পুরুষ হওয়াটা
কেবল একটি নাম বা পরিচয় নয়—
এ এক নীরব প্রতিশ্রুতি,
এক দীর্ঘ পথের শুরু।
(৩)
আমরা এই পৃথিবীতে আসি
এক অটল স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে,
ঘরের ছায়া হয়ে মিশে থাকতে,
ঝড়-ঝাপটাতেও বিন্দুমাত্র না নড়ে।
(৪)
প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে
আমরা নিজেদের ক্লান্তি লুকিয়ে রাখি;
চোখের জল
নীরবে হৃদয়ের গভীরে গিলে ফেলি।
(৫)
কারণ সমাজ বলে আসছে—
“পুরুষ কাঁদতে জানে না।”
(৬)
কিন্তু সত্যটা একটু আলাদা—
পুরুষও কাঁদে,
মাত্র তারা
আকাশের মতো বিশাল বুকের ভেতরেই কাঁদে।
(৭)
সংসারের যুদ্ধে আমরা
একজন নীরব সৈনিক;
বাইরে পাথরের মতো কঠিন,
কিন্তু ভেতরে
বসন্তের প্রথম বৃষ্টির মতো কোমল।
(৮)
আমাদের গাম্ভীর্যের আড়ালে
লুকিয়ে থাকে এক সরল হৃদয়,
যা কেবল প্রিয়জনের কাছে
ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হয়।
(৯)
কখনো পথটা বড্ড দীর্ঘ লাগে,
কখনো জীবনটা বড় ব্যঙ্গাত্মক—
একদিকে কর্তব্যের পাহাড়,
অন্যদিকে স্বপ্নের ছোট বাগান।
(১০)
তবুও আমরা হাসি,
কারণ পুরুষের জীবন
এক মধুর ট্র্যাজেডি-কমেডি।
(১১)
আমরা হয়তো কবিতা কম লিখি,
কিন্তু আমাদের জীবনটাই নিজে
একটি নীরব কবিতা।
(১২)
আর যদি পুনরায় জন্মের দুয়ার খোলে,
তবুই আমি বলব—
গৌরবের সাথে—
(১৩)
আমি আবার
একজন পুরুষ হয়েই জন্ম নিতে চাই।