
বসন্ত এসেছিল শব্দ করেই
পলাশের চিৎকারে।
কোকিলের গলা ফাটানো ডাকে
ঘুম ভেঙেছিল শহরের।
রূপ ছিল তার কৃষ্ণচূড়ার,
আগুন জ্বেলেছিল মোড়ে মোড়ে।
গন্ধ ছিল নতুন শাড়ির,
বুকপকেটে লুকানো চিরকুটের।
যায়ও সে শব্দ করেই,
শুকনো পাতার মচমচানি দিয়ে।
বনটা খালি করে দিয়ে যায়,
শুধু ডালে ডালে দীর্ঘশ্বাস রেখে।
বিদায় বেলায় রঙ চুরি করে নেয়,
লালটুকু মুছে দিয়ে করে যায় ধূসর।
বলে যায়—“ফাগুন তো ফুরায়,
কিন্তু অভাবটা রেখে গেলাম সারা বছর।”
কোকিলটা শেষ ট্রেন ধরে চলে গেছে,
স্টেশনে পড়ে আছে শুধু
তার ফেলে যাওয়া একটা ডাক,
আর আমার না-বলা কথার লাশ।
বসন্ত মরে না কবি
সে শুধু রঙ পাল্টে গ্রীষ্ম হয়।
যেমন তুমি চলে গিয়ে
আমার ভেতর চৈত্র হয়ে রও।
—