
আমার মনটা কখনও ব্ল্যাক হোলের মতো—
আলো ঢোকে, কিন্তু ফিরে আসে না।
ভয়গুলো গা ঘেঁষে ঘোরে, ঠিক যেন ডার্ক ম্যাটার—
দেখা যায় না, কিন্তু তার টান গভীরভাবে অনুভব করি।
প্রেমটাও বুঝি বিজ্ঞানের মতো,
কিন্তু পরীক্ষাগুলো সব সময় ব্যর্থ।
সে আসে, চোখে পড়ে,
তবুও আমার জিভ নিউটনের তৃতীয় সূত্র মানে না—
কোনো “প্রতিক্রিয়া” নেই, শুধু নীরবতা।
তাকে দেখি— সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে আসা রোদ্দুর যেন—
প্রাকৃতিক, স্বাভাবিক, অথচ অসাধারণ।
আমার হৃদয়ে তখন ডোপামিন আর সেরোটোনিনের উৎসব;
কিন্তু মুখটা?
স্থির— যেন হিমশীতল হাইড্রোজেন গ্যাস।
বন্ধুরা বলে— “যাও, কথা বলো!”
আমি হাসি আর ভাবি— এটা কি কেমিস্ট্রির টাইট্রেশন?
এক ফোঁটা ভুলেই কি পুরো বিক্রিয়াটা নষ্ট হয়ে যাবে?
সে পাশ দিয়ে চলে যায়—
আমার শরীরে এক মৃদু ভূমিকম্প,
যা রিখটার স্কেলে মাপা যায় না।
হৃৎস্পন্দন ছুটে চলে আলোর বেগে—
কিন্তু সাহস?
সাহস এখনও এক ধুলোমাখা গ্রামের পথ,
যা আজও পাকা হয়নি।
আমি তখন পালিয়ে যাই—
বাস্তব থেকে, সমীকরণ থেকে,
প্রেমের সব ব্যর্থ রিপোর্ট থেকে।
নিজের তৈরি সেই জগতে—
যেখানে সে আমার সঙ্গে কোনো যুক্তি ছাড়াই হাসে।
সেখানে আমাদের প্রেম নিউক্লিয়ার ফিউশন—
দুটি ক্ষুদ্র হৃদয় মিলে সৃষ্টি করে অসীম শক্তি।
কিন্তু বাস্তব?
বাস্তব বড় নির্মম এবং সরল—
সে তার নিজের কক্ষপথে,
আর আমি আমার সমীকরণে।
কখনও ভাবি— মানুষের মন কি এক ল্যাবরেটরি?
যেখানে প্রেম, ভয়, লজ্জা— সবসময় বিক্রিয়ায় লিপ্ত,
তবুও ফলাফল কখনও স্পষ্ট হয় না।
শেষে, আমি কবিতা লিখি—
এসব অদৃশ্য শক্তির নথিপত্র।
ঠিক এক বিজ্ঞানীর ডায়েরির মতো, যেখানে লেখা থাকে—
“প্রেম ছিল, কিন্তু প্রমাণ করতে পারিনি।”