
(১)
একদিন সন্ধ্যার আকাশ আমার কাছে এসে বলেছিল,
“তুমি কি সত্যিই পথ হারিয়েছ,
নাকি শুধু মানচিত্রটা উল্টো ধরে আছ?”
(২)
আমি মৃদু হেসে বলেছিলাম,
“ভালোবাসা এখন জিপিএসে ধরা পড়ে না;
সে তো হঠাৎ বৃষ্টির মতো—
ছাতা থাকলেও ভিজিয়ে দেয়।”
(৩)
নদী তখন পাশ থেকে কাশফুলের মতো
নরম গলায় ফিসফিস করে বলল,
“আমারও তো কোনো সোজা রাস্তা নেই,
তবু সাগর আমাকে চিনে রাখে।”
(৪)
তুমি ছিলে সেই সাগরের মতো— দূরে, অথচ নিশ্চিত;
আমি ছিলাম এক বেখেয়ালি নৌকা,
যে মাঝেমধ্যে দাঁড় টানতে ভুলে যায়
আর ভাবে—ঢেউ-ই বুঝি প্রেমের প্রকৃত চালক।
(৫)
আকাশের মেঘেরা তখন দল বেঁধে হাসছিল;
তাদের হাসিতে একটু বিদ্রূপ, একটু মায়া—
“দেখো, মানুষরা কেমন!
নিজেদের হৃদয়কে তালাবদ্ধ করে
চাবিটা খোঁজে নক্ষত্রের ভিড়ে!”
(৬)
রাত নেমে এলে চাঁদ বলল,
“তোমরা কেউই পথ হারাওনি;
শুধু একই স্বপ্নের ভিন্ন স্টেশন থেকে ট্রেন ধরেছ।”
(৭)
হাস্যকর নয় কি?
একই গন্তব্য, কিন্তু টিকিট আলাদা!
(৮)
তবু ভোর হলে সূর্য খুব সাধারণভাবে জানিয়ে দিল,
“বাস্তবতা কোনো কবিতা নয়;
কিন্তু কবিতাই বাস্তবতার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সাক্ষী।”
(৯)
আমি তখন মাটির গন্ধে হাত ডুবিয়ে বুঝলাম—
ভালোবাসা মানে সবসময় একসঙ্গে থাকা নয়,
বরং আলাদা থেকেও একই ঋতুর অপেক্ষা করা।
(১০)
আজও যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, “পথ খুঁজে পেলে?”
আমি বলি, “পথ তো কখনো হারায় না;
হারিয়ে যায় আমাদের অহংকার।
প্রকৃতি শুধু ধৈর্য ধরে দাঁড়িয়ে থাকে,
আমাদের ভুল মানচিত্র সংশোধনের অপেক্ষায়।”
(১১)
তুমি যদি আবার আসো, দিগন্তকে সঙ্গে নিয়ে এসো—
কারণ এখন আমি জানি, পথের শেষ বলে কিছু নেই;
শুধু একটি বাঁক আছে, যেখানে প্রেম নিজেই নিজের সঙ্গে দেখা করে।