
একুশ অর্থ যেন প্রস্ফুটিত যৌবন, তারুণ্যে অবগাহনে প্রকৃতি যেমন সবুজাভ হয়ে ওঠে বসন্তে তেমনি জীবন।
এই সময়টাতে যেন সবকিছু জয় করা যায়
সময়টাই যেন যুদ্ধ জয়ের,
এমনি একদিন দীপ্ত তারুণ্য জেগেছিল ফাগুন আগুন দিনে।
মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল ওরা
অরুণ আলোয় সেদিন জেগেছিল বাংলার আকাশ বাতাস মাটি, জেগেছিল বীর বাঙালি।
সেদিন শিরা-উপশিরায় বয়েছিল রক্তের নহর
কালবৈশাখী সে মাতনের কাছে কিছুই না।
আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হলো
‘প্রাণ দেবো তবুও ভাষার মান যেতে দেবো না।’
সেদিন যেন শুধু মানুষ নয় প্রকৃতিও জেগে উঠেছিল।
সাগর নদী পাহাড় এই বাংলার
একযোগে ফুঁসে উঠেছিল সেদিন —
আমার ভাষা তোমার ভাষা বাংলা ভাষা বাংলা ভাষা’
সেই সাথে গর্জে উঠেছিল মর্টার মেশিনগান।
ঝরেছিল একুশের তারুণ্য সালাম রফিক বরকত, শফিউর
আরও কত নাম না জানা ছাত্রজনতা।
বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জ্বাললো যে শিখা বুকের মাঝে
তা আজও দীপ্তমান।
আমাদের আবেগ, ভালোবাসা সবকিছু এই বাংলাদেশ আর বাংলা ভাষা।
বীর বাঙালি লড়ে দেশের জন্য, লড়েছে ভাষার জন্য।
দেহে থাকতে প্রাণ কেড়ে নিতে দেবো না অধিকার।
আমরা শিকড় থেকে শিখরে উঠি
জয়ের পতাকা উড়াই রেখে যাই জীবনের মান।
মর্মন্তুদ অথচ গর্বিত দিনটি,
অধিকার আদায়ের দিনটি বিশ্বস্বীকৃত মাতৃভাষা দিবস
যে প্রাণের ভাষা মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল যারা একদিন
তারা এখন জানে তা বিশ্বস্বীকৃত ঐতিহাসিক দিন।
বায়ান্ন সালের মধ্য দুপুরে যে শিখাটি রক্ত লেখায় জ্বালিয়ে গেলে
আজও সেই শিখা নিরন্তর নিরবে জ্বলে বাঙ্গালীর হৃদয়ে।