
(১)
রং মাখবো বলে আজকাল পিচকারি কিনি না আর,
বাজারে রঙের চেয়ে দামী এখন দুশ্চিন্তার ভার।
তবু ভোরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে
সূর্যকে বলি— “একটু হলুদ দেবে?”
সে হেসে বলে—
“হলুদ তো ফ্রি,
জানালাটা শুধু খুলে দাও।”
(২)
এক শিশুকে জিজ্ঞেস করলাম— “রং মানে কী?”
সে কাদা মেখে খিলখিলিয়ে হাসে—
“রং মানে ফিল্টার নয় কাকু,
রং মানে মাটির গন্ধ।”
দাঁতের ফাঁকে দুধের শুভ্রতা,
হাসিতে রামধনু।
বুঝলাম— আকাশ এখনো বিনামূল্যে।
(৩)
এক তরুণ দাঁড়িয়ে—
চোখে অনিদ্রার নীল ছাপ,
হাতে আবেদনপত্রের ক্লান্তি।
বললাম— “নীল মাখবে?”
সে মৃদু হেসে বলল—
“চারপাশ শুধু ধূসর।
স্বপ্নও সাদা-কালো।”
তবু তার বুকের ভেতর
লাল আগুন নেভেনি—
আশার প্রদীপ জ্বলছে।
(৪)
এক গৃহবধূর দুহাত ভরা সংসার।
ডাল হলুদ, কাঁচালঙ্কা সবুজ,
সন্তানের খাতায় লাল দাগ,
স্বামীর মুখে কখনো নীল মেঘ।
তবু সন্ধ্যার প্রদীপে
সব রং মিলে কমলা হয়ে যায়।
সে-ই প্রকৃতির নীরব পরিচালক।
(৫)
পার্কের বেঞ্চে এক বৃদ্ধ বললেন—
“রংগুলো ফিকে হয়ে যায় ধীরে ধীরে।”
আমি বললাম—
“সাদা তো সব রঙের সমষ্টি।”
তিনি হেসে উঠলেন—
“তাহলে বার্ধক্যই সবচেয়ে রঙিন!”
(৬)
প্রকৃতি নিজের মতো—
শিমুল লাল, কাশফুল সাদা, আকাশ নীল।
বর্ষা ফিসফিস করে—
“আমি কাঁদি, তাই বলে আমি দুঃখ নই।”
আমি শিখলাম—
মেঘেরও রসবোধ আছে।
(৭)
চল্লিশ বসন্ত পেরিয়ে বুঝলাম—
রঙহীন মানুষ নেই।
কেউ আনন্দে লাল,
কেউ দুঃখে নীল,
কেউ ব্যর্থতায় ধূসর,
কেউ ভালোবাসায় সবুজ।
(৮)
আজ আর কাউকে রং চাপাই না।
শুধু বলি—
“তোমার নিজের রং-ই যথেষ্ট।”
কারণ প্রেম মানে রং মাখানো নয়,
প্রেম মানে—
তার নিজস্ব আলোকে স্বীকার করা।