
দক্ষিণ আলোতে জন্মেছিল এক প্রশ্ন,
নীরব, কিন্তু চিৎকারের মতো কঠিন—
সূচী।
খবরের ক্যামেরা তার নয়,
মানুষের চোখের অন্ধকার তার আলো।
রূপপুরের মাটিতে সে দেখেছিল,
দারিদ্র্য নয়—এটি একটি নির্মিত স্রোত,
যে স্রোত হাত পাততে শেখায়,
প্রশ্ন করতে শিখায় না।
সে বোন, মা, সহযাত্রী—একসাথে সব নয়,
কিন্তু প্রতিটি মানুষের অন্তরে আলো জ্বালানো তার কৃতিত্ব।
শিক্ষা, চিকিৎসা, সংগঠন—
ক্ষুদ্র দল, দৃঢ় সংকল্প,
মানুষ মাথা তুলে দাঁড়াতে শিখেছে।
কিসকি মুর্মু, নিরপরাধ নাম,
ভয়ে ভরা ঘরে দাঁড়িয়ে বলেছে—
“আমি মানুষ। আমি প্রশ্ন করি।”
রূপপুরের মুরুব্বিরা, লালসা আর ষড়যন্ত্রে,
সনাতন মন্ডল ও রহিম আলীর চোখে
পশুত্বের অন্ধকার জ্বলেছে।
কুষ্টরোগীর ঘরে সূচী নিঃশব্দ আলো জ্বালিয়েছে,
চিকিৎসা নয়—সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছে।
নেশা ও শক্তির অন্ধকারে
মানবতার দীপ জ্বলে উঠেছে।
মিথ্যার নাটক, বিচারহীন রাত,
রাষ্ট্রীয় নীরবতার ছায়া—
কিন্তু মানুষের ভেতরে সত্যের চিৎকার
সবসময় শুনতে পাওয়া যায়।
গ্রাম থেকে শহর, শহর থেকে দেশ, দেশ থেকে পৃথিবী,
ভয়হীন মানুষের পদক্ষেপ আন্দোলন হয়ে ওঠে।
সত্য, সাহস, দয়া—
একই সঙ্গে জাগ্রত হয়ে মানুষের চোখে আলো ফোটায়।
বিচার হয়নি, তবে ইতিহাস লিখছে অন্যভাবে,
মাথা তুলে বলছে—“আমি মানুষ।”
শতক থেকে হাজার, হাজার থেকে লক্ষ,
মানবতার দীপ জ্বলে ওঠে,
সূচীর নাম হয়ে মানুষের অন্তরে চেতনা।
ভয়কে অতিক্রম করলে,
অন্ধকারের মাঝেও আলো জ্বলে।
সত্যের পথ দীর্ঘ হলেও,
বিবেক জাগ্রত হৃদয়ই পথ দেখায়।
এটি এক জীবন্ত প্রবন্ধ,
একটি যাত্রা,
একটি পৃথিবীকে জাগ্রত করার কবিতা—
যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের শক্তি চিনে,
মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।