1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. contentmgr5571@gmail.com : contentmgr55 :
  3. dailyhumanrights@gmail.com : dailyhumanrights :
  4. developer915@yahoo.com : developer91 :
  5. publisher2119@yahoo.com : publisher21 :
নীলফামারীতে অনিয়মের সত্যতা ও তদন্ত প্রতিবেদন আছে—তবু ব্যবস্থা নেই গ্রামপুলিশ মিনহাজুলের - dailyhumanrights
১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| শুক্রবার| বিকাল ৫:৫০|
শিরোনামঃ
হাজীগঞ্জ হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার উদ্যোগে ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক ওয়াজ মাহফিল নীলফামারীতে গ্রামপুলিশ মিনহাজুলের বিরুদ্ধে তদন্তে সত্যতা: শুনানির পর ব্যবস্থা নাকি দায়সারা পদক্ষেপ নীলফামারীতে তথ্য গোপনে নিয়োগ বাতিল, উপপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ নীলফামারীতে অনিয়মের সত্যতা ও তদন্ত প্রতিবেদন আছে—তবু ব্যবস্থা নেই গ্রামপুলিশ মিনহাজুলের নীলফামারীতে হুমকি-ভয়ভীতির অভিযোগে উত্তপ্ত মতিয়ার বিল,নির্বাচন দাবিতে মানববন্ধন নীলফামারীতে মতিয়ার বিলের সমবায় বিরোধে আতঙ্ক: নিরাপত্তা চেয়ে ৫ শতাধিক মানুষের মানববন্ধন ভাড়ার টাকায় নিজের ফ্ল্যাটের মালিক—মধ্যবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের স্বপ্নপূরণে নতুন সম্ভাবনা নীলফামারীর হাজীগঞ্জে খাসজমি দখল ও বিক্রির তদন্তে সত্যতা, নির্দেশের দুই মাসেও নেই মামলা সৃজন নীলফামারীর হাজীগঞ্জে খাসজমি দখল, পজিশন বিক্রি ও মসজিদ স্থানান্তরের প্রশাসনিক নির্দেশের দুই মাসেও মামলা সৃজন-উচ্ছেদ নেই সৈয়দপুরে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ

নীলফামারীতে অনিয়মের সত্যতা ও তদন্ত প্রতিবেদন আছে—তবু ব্যবস্থা নেই গ্রামপুলিশ মিনহাজুলের

নীলফামারী প্রতিনিধি
  • Update Time : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৫ Time View

নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ মো. মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের বিরুদ্ধে সরকারি সেবা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্য, উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া, কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং পরবর্তী সময়ে নতুন করে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

তার বিরুদ্ধে বয়স্ক, বিধবা ও মাতৃকালিন ভাতা, জন্মনিবন্ধনের নাম সংশোধন এবং ডিজিটালকরণসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা করে দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। অভিযোগের বিষয়টি নতুন নয়। এর আগেও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন সেবা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ গ্রহণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে সরেজমিন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিডিও ফুটেজসহ পেনড্রাইভে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্তের পর গত ১১ আগস্ট ২০২৬ মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ নগরবন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয়। মো. আম্বিয়া, স্বামী-হেলাল বলেন, বয়স্ক ভাতা করে দেওয়ার কথা বলে মিনহাজুল ৩ হাজার টাকা নিয়েছেন। স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় বিধবা ভাতার অনলাইন আবেদন করে দিয়েছে এবং সেই আবেদনে মোবাইল নম্বরের জায়গায় মিনহাজুল নিজের নম্বর ব্যবহার করেছেন।পরভাতি, স্বামী—মোসলেম উদ্দিন বলেন, বয়স্ক ভাতা করে দেওয়ার কথা বলে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। টাকা দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত ভাতা করে দেওয়া হয়নি। রাজিয়া খাতুন, স্বামী—আব্বাস আলী বলেন, বয়স্ক ভাতার জন্য মিনহাজুলকে ৩ হাজার টাকা দিয়েছি। টাকা দেওয়ার পর দেড় থেকে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও একাধিকবার যোগাযোগ করেও ভাতা করে দেননি।মেরিনা, স্বামী—রাজু বলেন, সন্তানের বয়স যখন দুই মাস, তখন ১৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ার কথা বলে মিনহাজুল ৪০০ টাকা নেন। পরে যোগাযোগ করলে ‘দিব’ বলে সময় পার করেন। বর্তমানে ফোন করলেও তিনি ফোন ধরছেন না। নাজমুল ইসলাম, পিতা—আলাওদ বলেন, তাঁর ছেলে ও মেয়ের জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ার কথা বলে প্রায় এক বছর আগে মিনহাজুল ৬০০ টাকা নিয়েছেন। এখনো জন্মনিবন্ধন করে দেওয়া হয়নি। তেল ও চিনির কার্ডের ট্যাক্সের কথা বলে ৯০০ টাকা নিয়েছেন। টাকা না দিলে কার্ড বাতিল হয়ে যাবে বলেও মিনহাজুল তাঁকে জানিয়েছিলেন।রফিক ইসলাম, পিতা—সাধির মিয়া বলেন, মেয়ে রুকাইয়ার বয়স যখন এক মাস, তখন জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ার কথা বলে মিনহাজুল ২০০ টাকা নেন। বর্তমানে মেয়ের বয়স সাত মাস হলেও এখনো জন্মনিবন্ধন করে দেওয়া হয়নি। নারগিস বলেন, মেয়ের জন্মনিবন্ধনের নাম সংশোধন করে দেওয়ার কথা বলে মিনহাজুল ৮০০ টাকা নিয়েছেন। এখনো সংশোধনের কাজ হয়নি। লিলি বেগম, স্বামী—নাজু ইসলাম বলেন, স্বামী নাজু ইসলামের জন্মনিবন্ধন ডিজিটাল করে দেওয়ার কথা বলে মিনহাজুল ৫০০ টাকা নিয়েছেন।এখনো তা করেনি।রিপন ইসলাম, পিতা—আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় এক বছর আগে তাঁর ছেলের জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ার জন্য মিনহাজুল ২০০ টাকা নিয়েছেন। এখনো জন্মনিবন্ধন হয়নি। ছেলের মূল টিকাদান কার্ডও মিনহাজুল নিয়ে গেছেন। রহিমা আক্তার, স্বামী—মিঠুন ইসলাম বলেন, ছেলে ইউসুফ মন্ডল আলীর জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ার কথা বলে প্রায় এক বছর আগে মিনহাজুল ৩০০ টাকা নিয়েছেন। এখনো জন্মনিবন্ধন করা হয়নি। মোছা. সাফিয়া আক্তার, স্বামী—জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ছেলে তানফিজ হাসান আবিদের জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ার কথা বলে প্রায় এক বছর আগে মিনহাজুল ৩০০ টাকা নিয়েছেন। এখনো জন্মনিবন্ধন করে দেওয়া হয়নি।

মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত-সংক্রান্ত নথিও পাওয়া গেছে। নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ স্বাক্ষরিত ৩ জুন ২০২৬ তারিখের স্মারক নং ০৫.৪৭.৭৩৬৪.০০০.০৪.০২৮.২১. ৪৫৮-এর মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি ওই পত্রে মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের বিরুদ্ধে পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় নিজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ এবং বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, জন্মনিবন্ধন সংশোধনসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব নীলফামারী সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়। তিনি ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেন। তদন্তের বিষয়ে ৩০ জুলাই জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিডিও ফুটেজসহ পেনড্রাইভে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরপর ১১ আগস্ট ২০২৬ নীলফামারী সদর উপজেলা কার্যালয় থেকে মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেননি।

এদিকে তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য দিতে গিয়ে হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ দুপুর ১২টার দিকে তদন্তের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে তথ্য প্রদান শেষে বের হওয়ার সময় মো. রাহাত ইসলাম (২৮), পিতা—মৃত বাবুল হোসেন কে হত্যা, গুম ও হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিনহাজুলের বিরুদ্ধে। রাহাত ইসলাম ওই দিন বিকেলে নীলফামারী সদর উপজেলা কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025