
এই পৃথিবীতে আমরা কেন এসেছি—
শুধু জন্ম আর মৃত্যুর মাঝখানে
কয়েকটি বছর ব্যয় করতে?
নাকি সময়ের ভিড়ে
নিজের অর্থ খুঁজে পেতে?
আমাদের আসার আগে
পৃথিবী চলছিল নিজের নিয়মে,
আমরা চলে গেলে
সেও চলবে নির্বিকার।
তবু এই ক্ষণিক উপস্থিতির ভেতরেই
লুকিয়ে আছে চিরস্থায়ী প্রশ্ন।
আমরা এসেছি কি
নাম বানাতে,
দেয়াল তুলতে,
হিসাব মিলাতে?
নাকি হৃদয়ের ভেতর
মানুষ হয়ে ওঠার সাধনায়?
পৃথিবী শেখায় প্রতিযোগিতা,
আত্মা শেখায় সহমর্মিতা।
একটা বলে— জয় করো,
আরেকটা বলে— জয়ী হও নিজেকে ছাড়িয়ে।
আমরা এসেছি
কষ্ট বুঝতে,
কারণ কষ্ট না জানলে
ভালোবাসা অচেনা থেকে যায়।
যে চোখ কখনো ভেজেনি,
সে চোখ আলো চিনতে শেখে না।
আমরা এসেছি
অন্যায় দেখে প্রশ্ন তুলতে,
ভয়কে অতিক্রম করে
সত্যের পাশে দাঁড়াতে।
কারণ নীরবতা যখন সুবিধা হয়,
তখন মানুষ হারিয়ে যায়।
এই জীবন কোনো স্থায়ী বাসা নয়,
এ এক পথচলা।
কেউ হেঁটে যায় আলো নিয়ে,
কেউ ফেলে যায় অন্ধকার।
পথটাই মনে রাখে—
কে কী রেখে গেল।
আমরা এসেছি
ভুল করতে,
ভুল স্বীকার করতে,
ক্ষমা শিখতে—
কারণ নিখুঁত মানুষ নয়,
সৎ মানুষই পৃথিবীর প্রয়োজন।
সম্পদ জমিয়ে নয়,
হৃদয় ছুঁয়ে
মানুষ বড় হয়।
যে বেশি নিয়েছে, সে ধনী নয়;
যে বেশি দিয়েছে,
সে-ই অমর।
আমরা এসেছি
একটু বিশ্বাস রেখে যেতে,
একটু সাহস ছড়াতে,
একটু মানবিকতা যোগ করতে
এই কঠিন সময়ের মানচিত্রে।
শেষদিনে কেউ জিজ্ঞেস করবে না—
কী পেলাম?
জিজ্ঞেস করবে—
কেমন মানুষ ছিলাম?
যদি বলা যায়—
সে মানুষ ছিল,
ভালোবাসতে জানত,
ন্যায়কে সম্মান করত,
মানুষকে মানুষ ভাবত—
তাহলেই বলা যাবে,
এই পৃথিবীতে আমাদের আসা
অর্থহীন ছিল না।