
একটা ডাহা মিথ্যে কানের কাছে চোঙা ফুঁকে ফুঁকে
আর রাত দিন সে একঘেয়ে ধামাধরা বোকা বাক্সের ভাড়া করা প্রেত প্রেতিনীদের খোনা খোনা গলায় ঘ্যানঘ্যান করে গেলে
অবশেষে একসময় মিথ্যেটাই
সত্যি বলেই পেরেকের মতো গেঁথে যায় মগজে,
যেমন করে গভীর রাতে
সারমেয়দের কানে তালা ধরানো কালোয়াতি জলসা সয়ে যায় অসহায় অসাড় কানের ফুটোতে
আমাদের সত্যনিষ্ঠ সনাতন বিগ্রহেরা ভুল করতে পারে না,
ভুল করে শুধু
আধপেটা দক্ষিণার বিনিময়ে অশিক্ষার সন্তান যত মিথ্যে উচ্চারণ;
আমাদের গণতান্ত্রিক প্রভুদের কৃপায়
দিন হয়ে যায় নির্ভুল রাত:
একাকী সংবিধান
সুবিশাল প্রাসাদে থাকে চিরবন্দি;
ভুল যত সব হয় খিদেবন্দি প্রজাদের,
কেননা ছুতোয় নাতায় প্রভুদের তবিলে
মাশুল ফাঁকি দিতে
বানায় তারা নানান রকম ফন্দি!
বস্তুতঃ ভুল বারবার করলে
নিজেরাই অবচেতনে তাকে দিয়ে দিই ছাড়পত্র;
ভুলেই যাই আমাদের আসলে
কোথায় যাওয়ার ছিল…
বরং ভুল পথেই মনে করি
এই তো আমরা বেশ রসে বশেই আছি,
বোবা কালা কানা সাজলেই
জীবন ধারণ জলবৎতরলম স্বচ্ছন্দ!
ভুলের শাস্তি হলো
একই ভুলের নতুন বাহানায়
চক্রাকারে পুনরাবৃত্তি;
এই কয়েদখানায় ওড়ে
স্বাধীনতার জয়পতাকা,
কয়েদিরাও গায় ভুল সুরে
তোতাপাখির মতো শেখানো বুলিতে
স্বদেশের আধসেদ্ধ জয়গাথা!
আমরা বুঝেও বুঝতে চাই না
আমাদের জন্মদিনই একটা ছোট্ট ভুল…
তবুও নাকি পরম করুণায় দেয় আশ্রয়
তোমার আমার নির্বাচনের অতীত
নিজের নিজের জননী স্বদেশ;
রক্ষকের ভূমিকায় নেমে তৃতীয় শ্রেণীর অভিনেতারা
নির্মম চিবিয়ে খায় এখানে
যাবতীয় নীতিমালার
নরম ঘিলুর স্বাদু অবশেষ
পদে পদে সেই ভুলের মাশুল
করে নেয় উশুল
আমাদের এই অনিচ্ছুক মাতৃভূমি—
শাড়ির আঁচলে
ভ্রাতৃ বিভাজনের শানানো ছুরি লুকিয়ে রাখা
এই প্রিয় পৃথিবীর সূতিকাগার;
ভুলের মৌরুসি পাট্টায়
ঘড়ির কাঁটা উল্টো দিকে ঘুরে
দ্রুতলয়ে ডেকে আনে সসম্মানে
প্রাগৈতিহাসিক নিকষ অন্ধকার…