
মুক্ত প্রাণের সুপ্ত শিখায়
জাগছে আজি গান,
শস্য-শ্যামল পলি-মাটির
উর্বর এই প্রাণ।
জন্মেছি এই পুণ্য ভূমি
বঙ্গে চিরকাল,
ছিন্ন করি’ দম্ভ-ভরা
শৃঙ্খলেরই জাল।
মেঘনা-পদ্মা- যমুনা ধায়
সিন্ধু পানে বেগে,
বুকের ভেতর প্রাচীন তৃষা
উঠছে পুনু জেগে।
কপোতাক্ষের কলতানে সেই
বিজন ব্যথা বাজে,
মধু-কবির ছন্দেরই ঢেউ
বাংলার এই মাঝে।
অরুণ রাগে ভাঙছে ঘুমে
রবির কর- ধারা,
বিশ্ব-মাঝে শ্রেষ্ঠ জাতি
হয় না দিশা- হারা।
উপনিষদের মন্ত্রে ঘেরা
শান্তির এই গেহ,
তবুও যখন আঘাত আসে
ছাড়ে না রণ কেহ।
নজরুলের ওই রণ-তুর্য
বাজছে দিকে দিকে,
অত্যাচারীর ললাট-লিখন
পড়বে মুছে ফিকে।
সাম্যবাদের মহামন্ত্রে
জুড়িছে সব হাত,
আসবে জেনো তিমির শেষে
রক্তিম প্রভাত।
বীর প্রসবিনী বঙ্গ-মাতা
অভয় দিল মনে,
লক্ষ শহিদ অমর আজও
সবুজ গহন বনে।
আমরা চির অপরাজেয়
সত্য-পথে চলি,
মায়ের চরণে অর্ঘ্য দেবো
রুধির-পুষ্প অঞ্জলি।
আকাশ চিরে উঠছে ধ্বনি
গগন-ভেদী স্বরে,
বাংলারই কণ্ঠ জাগে
প্রতি ঘরে ঘরে।