
ভাটির গানে হওকি উতলা!
ভাল লাগেকি শিউলি ফোটা দিন
মন চায় ফিরে যাই
সেইসে আগের দিন।
কদম কেয়ার সুবাসে হও মাতোয়ারা
চাঁপা চামেলির প্রতি আছে অনুরাগ?
শরতের কাশ ফুল মন ছুয়ে যায়
প্রেমের পরশে হয়না সজাগ।
দেয়েলের শিষকি করেনা চঞ্চল
কোকিল কি বিবশ করেনা প্রাণ!
শিমুল পলাশেরা কি জাগায়না মনে
ভালবাসার অমর গান?
কুয়াশা চাদর পায়কি আদর
হেমন্তে নবান্নে নতুন পিঠার জন্যে কাদেকি প্রাণ
জোসনা রাতে বটতলা বাটে
ভাল লাগেকি? পুথি পাঠ কবিগান।
বর্ষা ভাদরে দেখে রঙীন পাল
বসন্ত বাতাসে হওকি মাতাল?
মাঘের শীতে নয়া পাটালিতে
এখনো হয়কি লোভ?
বিবশ ফাগুন জলেনি প্রেমাগুন
আছে নাকি কোন ক্ষোভ!
চৈতালী বায় বালুকা উড়ায়
মনে কি পড়ে বাও ঘুরানি?
বৈশাখী ঝড়ে কাচা আম পড়ে
মনকি চায় সে আম কুড়ানি।
জৈষ্টের দুপুরে জল ভরা পুকুরে
ডুব সাতারের সেই দিন
পাকা আম আর মিষ্টি লিচু
স্মৃতির কাছে কি নাই ঋণ!
সরিষা ফুলের হলুদ বরণ
যেথা মৌমাছি নিত মৌ,
কল্পনা যখন পাখা মেলে দিত
হতে হলুদ শাড়ীতে হলুদিয়া বউ!
ভরা ভাদরে কতনা আদরে
তালের বড়া মায়ের হাতে,
মধুর সে স্মৃতি কৈশোর বেলা
মনে পড়েকি? আনন্দ স্মৃতির সাথে।
সেই নব যৌবনে আম্র কাননে
চুপি চুপি ভোমরার গুনগুন,
চৈত্রের দহন সাথে যৌবন
লাল টক টকে শিমুলে আগুন।
সেই স্মৃতিকি মনে পড়ে?
হয়তো কোন কল্প রাজকুমার,
তোমার হাত ধরে নিয়ে যেত
পার হয়ে তেপান্তর পারাবার।
পাগল করা কামিনী রজনীগন্ধা
রাতের জোসনায় বিলায় গন্ধ,
সেই স্বপ্নিল রাতে হাত রেখে হাতে
আমরা দুজন,ছিলনাতো কোন দ্বন্দ।
হারানো সে দিন বর্ষা ভাদরে
আজ এতদিন বিগত যৌবন,
ভুলতে পারিনি তোমার সাথে
কাটানো সময়, অবশ তনুমন।
জারুল ফুলের অপরূপ সাজ
হারালো সেদিন,কোথায় হিজল!
তুমিও হারালে, কনকচাঁপা?
তুমি নেই সাথে তাই ফুটেনি শতদল।
কলমির ফুল ঢেউয়ে দোদুল
মনে পড়েকি তোমারি উদাস চলা?
বউ কথা কউ ডাক শুনে
লাজে হয়েছো যে চঞ্চলা!
সেই স্মৃতি গুলি ভাবি আনমনে
কত সুখ স্মৃতি মান অভিমান,
নামনা জানা ঘাস ফুল গুলি
গায় স্মৃতির বেদনা গান।