
হিম-হাহাকার শীত নেমেছে,
সাড়া দেয় শিরশিরে বাতাস।
খড় জ্বালিয়ে আগুন ধরাই,
শরীর পায় উষ্ণতার আভাস।
হিমবাহের ছোঁয়ায় কাঁপে দেহ,
আগুনে বসে গরম হই আমি।
শীত চলে যায়, বসন্ত আসে—
ফুটুক মনে প্রেমের বাঁশির ধ্বনি।
কুয়াশায় ঢাকা নিস্তব্ধ পথ,
তলে লুকায় উষ্ণতার চাদর।
সঙ্গে আছে প্রিয় মানুষ,
তাকে করি ভালোবেসে আদর।
কনকনে শীত, মন চায়
খেতে মিষ্টি খেজুরের রস,
তবু মনে একটু সংশয়—
ধরা পড়লে বুক করে ধরফর!
শীতের দংশনে শরীর কাঁপে,
ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি কাশি,
দ্রুত সেরে উঠতে হলে
ওষুধ খেতে হবে আসি।
ঘরে উষ্ণতা, হাতে গরম চা,
ধোঁয়া উঠে মন জুড়ায়,
লেপ–কাঁথা জড়িয়ে বসে
ফোন চলতে চলতেই গান বাজায়।
হাড় কাঁপানো শীতে জ্যাকেট পরি,
তারপর আবার খুলে ফেলি,
কারণ খেলা আছে হাতে—
র্যাকেট ঘুরবে খেলায় মেতে।
বরফ ঝরা শীতের দিনে
ডেকে আনি বন্ধুদের সবাই,
হাসি–আড্ডায় জমে ওঠে
শীতও যেন উষ্ণ হয় তাই।
রাত ফুরোয়, ভোর আসে,
পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে।
নতুন বছরে আনন্দ নামে
পিঠা উৎসব মনে জাগে।
মা আনেন বাজার ভর্তি
আটা–চিনি–ডাল–সুজি,
খেজুর গুড় আর নারিকেল—
ব্যস্ততায় কেটে যায় দুজে।
কড়াইতে গরম তেলে
তৈরি হয় রকমারি পিঠা,
ভাজা, পুলি, পাটিসাপটা—
স্বাদে মনটি ভরে ওঠা।
তৃপ্তি ভরা খাওয়া শেষে
ঘরে জাগে সুখের ঢেউ,
হঠাৎ দেখি শীত কাঁপানো
অসহায় মানুষের মুখ নুয়ে।
তখন মনে হলো—
উষ্ণতা শুধু আমার ঘরে কেন?
লেপ–কম্বল, চাদর–পোশাক
ছড়িয়ে দিই তাদের বুকে যেন।
ভালোবাসার ছোঁয়ায় তারা হাসে,
দোয়া দেয় মন ভরে কাছে। ❤️