
সরলতা দুর্বলতা নহে—এই বাক্য আগুন,
যে বোঝে না, তার চোখে বাঁধা সুবিধার শাসন।
চুপ থাকা মানে ভাঙা নয়, মাথা নতও না,
ঝড়ের আগে আকাশ যেমন নীরব—ভেবো না!
সমাজ তোমায় মাপে শব্দে, গর্জনে আর ভিড়ে,
যে চেঁচায় বেশি, তাকেই দেয় বীরের আসনে চড়ে।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—সব বিপ্লবীর ঘরে,
আগে ছিল গভীর নীরবতা, বজ্র পরে ঝরে।
যাদের তুমি দুর্বল বলো, তারা সহ্য করে জানে,
সহ্যের সীমা পেরোলেই দাবানল নামে।
ভাঙা মানুষই গড়ে তোলে নতুন সমাজ,
কারণ ক্ষত না পেলে কে বোঝে অন্যায় আজ?
মুখোশ-পরা সভ্যতার এই বাজারে মানুষ বিকোয়,
চাতুর্যের দামে বিক্রি হয় বিবেক আর ভয়।
সরল মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে—একলা, অবিচল,
তার মেরুদণ্ড সোজা বলেই সে নড়ে না, অচল নয় সে মোটেই, অটল।
সাবধান হে সমাজ!
যাকে তুমি নরম ভাবো, সে-ই বজ্রের বীজ,
যার চোখে আগুন নেই, তার বুকেই আগ্নেয় শীষ।
সরলতা যখন জাগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে,
তখন রাজসিংহাসন কাঁপে, ইতিহাস লেখে মুখে।
আজ সচেতন হও—দৃষ্টিভঙ্গি ভাঙো, বদলাও,
নীরব মানেই নির্বোধ নয়—এই সত্য মানাও।
সরলতা, দুর্বলতা নহে—এ এক বিপ্লবী নাম,
যে নাম উচ্চারিত হলেই বদলে যায় শাসন-ব্যবস্থার দাম।