তোমার আমার ভালবাসা আকাশের ঐ শুভ্র মেঘের মত
ভেসে বেড়ায় সীমাহীন নীলে, ধরে না কোনো ক্ষত।
রোদ উঠলে সোনা হয়, বৃষ্টি এলে জল,
তবুও তার ভেতর লুকিয়ে থাকে অবুঝ কোলাহল।
তোমার চোখের তারায় আমি দেখি শ্রাবণ-দুপুর,
আমার নীরবতায় তুমি শুনো অচেনা নূপুর।
ছুঁতে গেলে মিলিয়ে যায়, দূরে গেলে কাছে ডাকে,
এই তো খেলা—আলো-ছায়ার ফাঁকে ফাঁকে।
তুমি যখন হাসো, আমার বুকের মধ্যে বাজে বাঁশি,
আমি যখন কাঁদি, তোমার আঙুল মুছে দেয় দীর্ঘশ্বাসই।
নাম দিইনি এই সম্পর্কের, দেবোই বা কেন?
কিছু নদীর তো কোনো মোহনা থাকে না জেনো।
ঝড় এলে তুমি হও আমার টিনের চালের শব্দ,
খরা এলে আমি হই তোমার শেষ জমানো জল, স্তব্ধ।
লোকে বলে—মেঘ তো কেটে যায়, থেকে যায় রোদ্দুর,
আমি বলি—মেঘ না থাকলে আকাশটা কত নিষ্ঠুর!
তোমার আমার দূরত্বটা ঠিক মধ্যরাতের ট্রেনের মতো,
হুইসেল শুনি দুজনেই, কিন্তু প্ল্যাটফর্ম ভিন্নতর।
তবু একই কুয়াশা মাখি, একই চাঁদের নিচে জাগি,
তোমার ঘুম ভাঙে আমার স্বপ্নে, আমার রাত কাটে তোমার লাগি।
কেউ জানে না আমরা আছি, জানার দরকারও নাই,
কিছু ফুল গন্ধ ছড়ায় লুকিয়ে, দেয়ালে বকুল-ঠাঁই।
তোমার নাম জপি না, তবু ঠোঁটে লেগে থাকে,
আমার ছায়া মাপো না, তবু পথে পথে আঁকে।
যদি কোনোদিন দেখা হয় হঠাৎ অচেনা বাসস্টপে,
চোখ নামিয়ে নেব দুজনেই, বুকের ভেতর কেঁপে।
বলব না—ভালোবাসি, শুধু বলব—“বৃষ্টি হবে?”,
তুমি বলবে—“হোক, মেঘ তো আছেই আকাশে তবে।”
এই তো আমরা—ধরাও যায় না, ছাড়াও যায় না,
শুধু উড়ে বেড়াই, শুভ্র, নরম, তীব্র বেদনায় না।
শেষ বলে কিছু নেই, মেঘের কি শেষ থাকে?
এক আকাশ থেকে আরেক আকাশে সে শুধুই আঁকে।